প্রকাশিত:
২৫ জানুয়ারী, ২০২৬
.jpg&w=3840&q=75)
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ভয়াবহ তুষারপাতের কারণে মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ঝড়ের কারণে টেক্সাসের পশ্চিমে দুই লাখ ৩০ হাজারের বেশি মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে বরফে ঢেকে যাওয়ায় পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
উত্তর আমেরিকা বর্তমানে এক চরম প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি। গত কয়েক দিন ধরে চলা শক্তিশালী তুষারঝড় ও হিমাঙ্কের নিচে নেমে যাওয়া তাপমাত্রায় যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তীর্ণ জনপদ এখন বিপন্ন।
তুষারঝড়ের তীব্রতায় সঞ্চালন লাইনের ওপর বরফ জমে এবং গাছ উপড়ে পড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে মিশিগান, নিউইয়র্ক, ওহাইও এবং পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যে।বিদ্যুৎ না থাকায় ঘর গরম রাখার যন্ত্র (Heating system) কাজ করছে না। হিমাঙ্কের অনেক নিচে তাপমাত্রা নেমে যাওয়ায় শিশু ও বয়স্কদের জীবন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। প্রশাসন দ্রুত অস্থায়ী ‘ওয়ার্মিং সেন্টার’ বা উষ্ণ আশ্রয়কেন্দ্র খুলেছে।
এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় সময় শনিবার (২৪ জানুয়ারি) মার্কিন প্রেসিডেন্ট দক্ষিণ ক্যারোলিনা, ভার্জিনিয়া, টেনেসি, জর্জিয়া, উত্তর ক্যারোলিনা, মেরিল্যান্ড, আরকানসাস, কেনটাকি, লুইসিয়ানা, মিসিসিপি, ইন্ডিয়ানা এবং পশ্চিম ভার্জিনিয়ায় জরুরি দুর্যোগ ঘোষণা অনুমোদন দিয়েছে।
ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম দেওয়া এক পোস্টে বলেন, আমরা এই ঝড়ের পথে থাকা সমস্ত রাজ্যের উপর নজর রাখব এবং তাদের সাথে যোগাযোগ রাখব। নিরাপদে থাকুন এবং উষ্ণ থাকুন।
বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে, রাস্তা বরফে ঢাকা থাকায় এবং ঝোড়ো বাতাসের কারণে মেরামতি দলগুলো দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারছে না। কোনো কোনো দুর্গম এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরুদ্ধার করতে আরও কয়েক দিন সময় লেগে যেতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
পরে জরুরি বিভাগ গ্রিড অপারেটর পিজেএম ইন্টারকানেকশনকে রাজ্যের আইন বা পরিবেশগত অনুমতির কারণে সীমাবদ্ধতা নির্বিশেষে মধ্য-আটলান্টিক অঞ্চলে "নির্দিষ্ট রিসোর্স" পরিচালনা করার জন্য একটি জরুরি আদেশ জারি করেছে।এদিকে আবহাওয়ার এক পূর্বাভাসে আগামীকাল সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রেকর্ড ঠান্ডা তাপমাত্রা এবং বিপজ্জনকভাবে ঠান্ডা বাতাসের তীব্রতা গ্রেট প্লেইন অঞ্চলে আরও নেমে আসার পূর্বাভাস দিয়েছেন।
ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস (NWS) জানিয়েছে, এটি এই দশকের অন্যতম শক্তিশালী তুষারঝড়। আগামী ২৪ ঘণ্টায় আরও কয়েক ইঞ্চি তুষারপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ঝোড়ো হাওয়ার কারণে ‘ফ্রস্টবাইট’ বা তীব্র ঠান্ডায় অঙ্গহানির ঝুঁকি থাকায় নাগরিকদের বাড়ির বাইরে বের না হতে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জর্জিয়ার কর্মকর্তারা একে গত এক দশকের সবচেয়ে বড় বরফঝড়গুলোর একটি বলে উল্লেখ করে বাসিন্দাদের অন্তত ৪৮ ঘণ্টা ঘরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। ঝড়ের প্রভাব আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তাই সকলকে জ্বালানি, খাদ্য মজুদ এবং পরিস্থিতি মোকাবেলায় সবাইকে সর্তক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবীরা আটকে পড়া মানুষদের কাছে শুকনো খাবার ও কম্বল পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে প্রকৃতির এই তাণ্ডব না থামা পর্যন্ত উদ্ধারকাজ পূর্ণগতিতে শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না।